তুমি তখন মাত্র তেইশ বছরের যুবক।
আর আমি বিশ।
পাগলামি তে ভরা একটা সময় ছিলো
বাসায় রিলেশনের কথা জেনে যাওয়ায় আমাদের কঠিন নজরে রাখা শুরু হলো।
আমার তো বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ।
একদিন পালিয়ে গেলাম তোমার সাথে।
সব ছেড়ে ছুড়ে নতুন করে তোমার সাথে বাঁচার জন্যে হাত ধরলাম তোমার।
আর আমি বিশ।
পাগলামি তে ভরা একটা সময় ছিলো
বাসায় রিলেশনের কথা জেনে যাওয়ায় আমাদের কঠিন নজরে রাখা শুরু হলো।
আমার তো বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ।
একদিন পালিয়ে গেলাম তোমার সাথে।
সব ছেড়ে ছুড়ে নতুন করে তোমার সাথে বাঁচার জন্যে হাত ধরলাম তোমার।
বিয়ে হয়েছিলো তোমার এক ফ্রেন্ডের কাছে টাকা ধার করে।
তুমি আমায় শুধু একটা মেহেদী কিনে দিয়ে বলেছিলে, মেহেদী হাতে দিলেই আর কিছু লাগে না, নতুন বউ মনে হয় হাত দুটো দেখলেই।
সেই মেহেদী পরা হাতে তোমার হাত ধরলাম, তারপর কতো ঝড়বৃষ্টি, তুফান, টর্নেডো, সুনামি দুজন মিলে কাটিয়ে দিলাম এক ছাতার নিচে।
তুমি আমায় শুধু একটা মেহেদী কিনে দিয়ে বলেছিলে, মেহেদী হাতে দিলেই আর কিছু লাগে না, নতুন বউ মনে হয় হাত দুটো দেখলেই।
সেই মেহেদী পরা হাতে তোমার হাত ধরলাম, তারপর কতো ঝড়বৃষ্টি, তুফান, টর্নেডো, সুনামি দুজন মিলে কাটিয়ে দিলাম এক ছাতার নিচে।
দের হাজার টাকায় একটা বাড়ির চিলেকোঠায় রুম ভাড়া নিলাম ।
সেই দের হাজার টাকাও জোগাড় হতো খুব কষ্ট করে।
টিউশনির পাশাপাশি তুমি জব খুঁজতে শুরু করলে।
তখনও তোমার গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট হয়নি।
একটা জব পেয়েও গেলে কপাল জোরে। পাঁচ হাজার টাকা স্যালারি।
সারাদিন আমি একা একা থাকতাম, রান্না করা ঘর গোছানো করে ব্যস্ত রাখতাম নিজেকে। তুমি সন্ধ্যা বেলা ফিরতে।
আমাদের রুমে বিছানা ছিলো না, মেঝেতে একটা কাথা বিছিয়ে ঘুমাইতাম আমরা।
রাতের খাবার খেয়ে আমরা বাইরে বসতাম।
আমি তোমার কোলে শুয়ে আকাশ দেখতাম, তারা দেখতাম আর তুমি সিগারেটের ধোয়া ছেড়ে বলতে, সুখ যদি আমাদের এই চিলেকোঠার ঘরটাতে না থাকে তাহলে পৃথিবী তে কোথাও সুখ নেই।
সত্যিই, সুখের অভাব ছিলো না আমাদের।
প্রথম স্যালারি পাওয়ার পর তুমি আমার জন্যে হুমায়ন স্যারের একটা বই নিয়ে আসলে।
কতো খুশি ছিলাম আমি মনে পরে তোমার?
তুমি কবিতার বই আনতে, ঘুম না আসা রাত গুলো তে আমি তোমায় কবিতা শোনাতাম।
এভাবেই দিন বাড়তে থাকে
প্রথম এনিভার্সারিতে তুমি নিয়ে এলে মাত্র ১টা গোলাপ।
আর এক ডজন রেশমি চুড়ি।
আমি বললাম একটা ফুল??
তুমি বললে সামনের বছর দুইটা পাবে।
এভাবে বাড়তে বাড়তে বাড়তে লাস্ট এনিভার্সারিতে তুমি আমায় ৪০টা গোলাপ দিলে।
কিভাবে যে আমাদের এই টোনাটুনির সংসারের বয়স চল্লিশ হয়ে গেলো টেরই পেলাম না।
কতো গল্প কতো কথা আমাদের, কথার প্রসঙ্গ পালটায়, আমাদের কথা শেষ হয়না।
আমাদেরও ঝগড়া হতো, কারণেঅকারণে ঝগড়া করা আমার স্বভাব।
আর আমার দোষ হলেও সরি বলাটা তোমার স্বভাব।
ছুটির দিন গুলোতে আমরা সারাদিন ট্রেনে ঘুরতাম।
আমি এক ফ্লাস্ক চা বানিয়ে নিতাম।
ট্রেন চলতো, আমি উদাস চোখে তাকিয়ে থাকতাম বাইরের দিকে, আর তুমি আমার দিকে।
বাতাসে চুল উড়লে নাকি আমাকে সুন্দর লাগে বলতে তুমি।
আচ্ছা বলতো, আমরা কখনো কষ্টে ছিলাম?
আধপেটা খেয়েও তোমার সাথে গল্প করে হিহি করে হেসেছি, বাড়ির কথা মনে পড়লে তোমার বুকে আছড়ে পড়ে কেঁদেছি, তুমি মাথায় হাত বুলিয়ে সব কষ্ট ভুলিয়ে দিতে।
সময় পাল্টাতে থাকে।
দুজন এক সাথে বৃদ্ধ হওয়ার প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছি আমরা।
আমার ভাজ পরা কপালে তুমি যখন চুমু খেয়ে বলো, "ভালোবাসি"
আমার তখন মনে হয় আমি সেই কুড়ি বছরের মেয়ে রয়ে গেছি।
বুড়ি যে হয়েছি তা কেবল আয়নায় দেখলেই মনে হয়।
জানো, মাঝে মাঝে মনে হয় জীবন টা কেনো এতো ছোট? আরেকটু বড় হতে পারলো না? এক হাজার বা দুই হাজার বছর??
এই তো সেদিন শুরু হলো সংসার।
অথচ তুমি নাকি বুড়ো হয়ে গেছো।
হার্টের একটা অপারেশন করতে হবে বলে হসপিটালে ভর্তি হলে তুমি।
এই চল্লিশ বছরের মধ্যে কখনো তোমাকে ছাড়া থেকেছি বলো?
আমিও সব নিয়ে হসপিটালে হাজির।
জানো কাল তোমার অপারেশন, আজকে বিকেলে ডক্টর আমায় ডেকে বললো, এতোকিছু আপনি সামলাতে পারবেন? ছেলেমেয়েদের খবর দিন।
কি আশ্চর্য!
আমাদের তো কোনো ছেলেমেয়ে নেই।
অথচ এই অভাব টা কখনো তুমি বুঝতেই দিলে না আমায়?
হাসিমুখে ডক্টর কে উত্তর দিলাম, সারাজীবন ওকে আমিই সামলেছি, এখন কেনো পারবো না?
আমাদের সন্তান নেই ।
এখন রাত একটা বাজে, কাল সকালে তোমার অপারেশন।
তাড়াতাড়ি সুস্থ হও প্লিজ, এখানে ভালো লাগছে, তোমার সাথে আমাদের সেই ছোট বাবুই পাখির বাসায় ফিরতে চাই।
যাই ঘুমিয়ে পরি, রাত জেগে চোখের নিচে কালি পরলে তুমি আবার রাগ করবে ।
সেই দের হাজার টাকাও জোগাড় হতো খুব কষ্ট করে।
টিউশনির পাশাপাশি তুমি জব খুঁজতে শুরু করলে।
তখনও তোমার গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট হয়নি।
একটা জব পেয়েও গেলে কপাল জোরে। পাঁচ হাজার টাকা স্যালারি।
সারাদিন আমি একা একা থাকতাম, রান্না করা ঘর গোছানো করে ব্যস্ত রাখতাম নিজেকে। তুমি সন্ধ্যা বেলা ফিরতে।
আমাদের রুমে বিছানা ছিলো না, মেঝেতে একটা কাথা বিছিয়ে ঘুমাইতাম আমরা।
রাতের খাবার খেয়ে আমরা বাইরে বসতাম।
আমি তোমার কোলে শুয়ে আকাশ দেখতাম, তারা দেখতাম আর তুমি সিগারেটের ধোয়া ছেড়ে বলতে, সুখ যদি আমাদের এই চিলেকোঠার ঘরটাতে না থাকে তাহলে পৃথিবী তে কোথাও সুখ নেই।
সত্যিই, সুখের অভাব ছিলো না আমাদের।
প্রথম স্যালারি পাওয়ার পর তুমি আমার জন্যে হুমায়ন স্যারের একটা বই নিয়ে আসলে।
কতো খুশি ছিলাম আমি মনে পরে তোমার?
তুমি কবিতার বই আনতে, ঘুম না আসা রাত গুলো তে আমি তোমায় কবিতা শোনাতাম।
এভাবেই দিন বাড়তে থাকে
প্রথম এনিভার্সারিতে তুমি নিয়ে এলে মাত্র ১টা গোলাপ।
আর এক ডজন রেশমি চুড়ি।
আমি বললাম একটা ফুল??
তুমি বললে সামনের বছর দুইটা পাবে।
এভাবে বাড়তে বাড়তে বাড়তে লাস্ট এনিভার্সারিতে তুমি আমায় ৪০টা গোলাপ দিলে।
কিভাবে যে আমাদের এই টোনাটুনির সংসারের বয়স চল্লিশ হয়ে গেলো টেরই পেলাম না।
কতো গল্প কতো কথা আমাদের, কথার প্রসঙ্গ পালটায়, আমাদের কথা শেষ হয়না।
আমাদেরও ঝগড়া হতো, কারণেঅকারণে ঝগড়া করা আমার স্বভাব।
আর আমার দোষ হলেও সরি বলাটা তোমার স্বভাব।
ছুটির দিন গুলোতে আমরা সারাদিন ট্রেনে ঘুরতাম।
আমি এক ফ্লাস্ক চা বানিয়ে নিতাম।
ট্রেন চলতো, আমি উদাস চোখে তাকিয়ে থাকতাম বাইরের দিকে, আর তুমি আমার দিকে।
বাতাসে চুল উড়লে নাকি আমাকে সুন্দর লাগে বলতে তুমি।
আচ্ছা বলতো, আমরা কখনো কষ্টে ছিলাম?
আধপেটা খেয়েও তোমার সাথে গল্প করে হিহি করে হেসেছি, বাড়ির কথা মনে পড়লে তোমার বুকে আছড়ে পড়ে কেঁদেছি, তুমি মাথায় হাত বুলিয়ে সব কষ্ট ভুলিয়ে দিতে।
সময় পাল্টাতে থাকে।
দুজন এক সাথে বৃদ্ধ হওয়ার প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছি আমরা।
আমার ভাজ পরা কপালে তুমি যখন চুমু খেয়ে বলো, "ভালোবাসি"
আমার তখন মনে হয় আমি সেই কুড়ি বছরের মেয়ে রয়ে গেছি।
বুড়ি যে হয়েছি তা কেবল আয়নায় দেখলেই মনে হয়।
জানো, মাঝে মাঝে মনে হয় জীবন টা কেনো এতো ছোট? আরেকটু বড় হতে পারলো না? এক হাজার বা দুই হাজার বছর??
এই তো সেদিন শুরু হলো সংসার।
অথচ তুমি নাকি বুড়ো হয়ে গেছো।
হার্টের একটা অপারেশন করতে হবে বলে হসপিটালে ভর্তি হলে তুমি।
এই চল্লিশ বছরের মধ্যে কখনো তোমাকে ছাড়া থেকেছি বলো?
আমিও সব নিয়ে হসপিটালে হাজির।
জানো কাল তোমার অপারেশন, আজকে বিকেলে ডক্টর আমায় ডেকে বললো, এতোকিছু আপনি সামলাতে পারবেন? ছেলেমেয়েদের খবর দিন।
কি আশ্চর্য!
আমাদের তো কোনো ছেলেমেয়ে নেই।
অথচ এই অভাব টা কখনো তুমি বুঝতেই দিলে না আমায়?
হাসিমুখে ডক্টর কে উত্তর দিলাম, সারাজীবন ওকে আমিই সামলেছি, এখন কেনো পারবো না?
আমাদের সন্তান নেই ।
এখন রাত একটা বাজে, কাল সকালে তোমার অপারেশন।
তাড়াতাড়ি সুস্থ হও প্লিজ, এখানে ভালো লাগছে, তোমার সাথে আমাদের সেই ছোট বাবুই পাখির বাসায় ফিরতে চাই।
যাই ঘুমিয়ে পরি, রাত জেগে চোখের নিচে কালি পরলে তুমি আবার রাগ করবে ।
You're only twenty-three years old.
And i'm twenty
There was a time filled with madness
Knowing about the relation at home, we started to take a hard look.
I'm getting out of the house.
One day I ran away with you.
I took hold of all hands to keep you alive with new ones.
Married to borrow money from one of your friends.
You just bought me a Mehdi and you did not want anything else, but if you look at the hand, I feel like a new wife.
He grabbed your hand in the hands of wearing this handmade, then how many thunderstorms, storms, tornadoes, and tsunami, I managed to get together under an umbrella.
Auctioned room for a room in the attic of a house at a thousand rupees.
Tens of thousands of rupees were found to be very difficult.
Alongside the tuition, you started searching for Job.
Still, your graduation was not complete.
If you get a Job, your forehead is loud. Salary of five thousand taka
All day, I used to live alone, keeping my house cooked up and running busy myself. You come back in the evening.
We did not have a bed in our room, we slept on a floor on the floor.
We sat outside by eating dinner.
I used to see the sky lying on your lap, they used to see and leave you smoke from cigarette, happiness does not have any happiness in the world if there is no happiness in our room.
Really, there was no lack of happiness for us.
After getting the first salary, you came to me with a book of humorous sir.
I was so happy I remember you?
I used to say poetry to you, to bring poetry books, to sleep in the night.
Thus, the day continued to grow
If you bring it to the first anniversary only one rose.
And a dozen of silk bracelets
I said a flower ??
If you say you can get two in the next year.
Increasingly increasingly, in the last anniversary, you gave me 40 roses.
How could we not have attained the age of 40 years of this tonoty family?
How many stories we talk about, changing the context of the words, we are not finished.
We also had a quarrel, because of my dispute, because of dispute.
And it is my fault, but it is your nature to say sorry.
In the holidays we used to travel all day in the train.
I used to make a flask tea.
When the train went on, I used to look bored on the outside, and you were looking at me.
Whether the hair is blowing in the air or I like it to say I love you.
Well said we were in trouble?
I used to laugh and tell you, I have laughing my story with you, you have been crying in your chest when you remember the house, you have to put all your problems in the head.
Time has changed.
We have fulfilled the promise to grow two together.
When you kiss my forehead, say "love"
I feel like I was a girl of twenty years.
The old woman seems to be seen only in the mirror.
You know, sometimes why is life so small? Could not be a little bigger? One thousand or two thousand years ??
This is the day that started the family.
But you're old enough.
You have to do an operation of heart and you are hospitalized.
Have you ever been without me in this forty years?
I also attended with all the hospitals.
You know, tomorrow is your operation, this afternoon the doctor called me and said, can you cope with all this? Report to the children.
What a surprise!
We have no children.
But you never understand this lack of me?
I smiled to the doctor who answered, I have adjusted myself, why can not I now?
We have no children.
Now the night is a bad, tomorrow morning your operation.
Please be quick, please be happy here, you want to return to our little baboo bird house with you.
Whatever you go to sleep, you wake up in the night when you put the ink under your eyes.

Comments
Post a Comment